• বুধবার ( রাত ৮:৪৪ )
  • ১৭ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং
  • ২৯শে রবিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী
  • ৪ঠা মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( শীতকাল )
MY SOFT IT

ছাড়ের চেয়ে চাপ বেশি

নতুন বাজেটে সাধারণ করদাতারা বিশেষ কোনো ছাড় পাননি। বরং চাপ বেড়েছে। স্বস্তির জায়গাগুলো সীমিত করা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি, কর রেয়াত সুবিধা কমানো হয়েছে। ফলে এখন আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে। নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়বেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় আয়কর আইনের পরিবর্তন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। প্রতিবন্ধীদের বিশেষ কর সুবিধা, প্রান্তিক করদাতার ঐচ্ছিক রিটার্ন দাখিলের মতো জনপ্রিয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অর্থবিলে দেখা যাচ্ছে এবার আয়করে ৪৮টি ছোট-বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এত পরিবর্তন আর কোনো বছরেই আনা হয়নি।
পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিনিয়োগে কর রেয়াতি সুবিধা কমানো, ভবিষ্য তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মুনাফায় উৎসে কর বসানো, সব চাকরিজীবীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক, সরকারি কর্মকর্তাদের কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ইত্যাদি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য (করনীতি) এম আমিনুর রহমান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বিনিয়োগে কর রেয়াত সুবিধা কমানোয় সাধারণ করদাতারা চাপে পড়লেন। অবশ্য ধনীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাঁর মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর আদায়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কাটানোর জন্য বছর বছর উৎসে করের আওতা বৃদ্ধি করে। এতে আয়করের মূল দর্শনকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।
আশাভঙ্গের বাজেট: সংসারের নানামুখী খরচের চাপে ছোট করদাতারা প্রতিবছর করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির আশায় থাকেন। কিন্তু এবার বাজেট থেকে সুখবর আসেনি। করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকা রয়েছে। ন্যূনতম আয়করের পরিমাণও আগের মতোই থাকছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ হাজার টাকা, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় চার হাজার টাকা এবং অন্য এলাকায় তিন হাজার টাকা।
করের বোঝা বাড়ছে: দুঃসময়ের ভরসা হিসেবে মধ্যবিত্ত পরিবারেরা উপার্জনকারীর আয়ের কিছুটা অংশ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র কিনে রাখেন কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায় পুঁজি খাটান। এ জন্য এত দিন তাঁরা কর ছাড় পেতেন। এবার অর্থমন্ত্রী ছোট বিনিয়োগকারীদের এ ভরসার জায়গায় বাদ সাধলেন। বিনিয়োগে কর রেয়াতি সুবিধা কমানো হয়েছে। এখন থেকে কোনো করদাতা তাঁর মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করে কর রেয়াত সুবিধা নিতে পারবেন। এত দিন একজন করদাতা তাঁর মোট আয়ের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ১৫ শতাংশ হারে কর রেয়াত নিতে পারতেন। রেয়াতি সুবিধা কমায় এখন করযোগ্য আয়ের পরিমাণ বেড়ে যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠান করদাতা কর্মীর বেতন-ভাতার ওপর বিনিয়োগ রেয়াতি সুবিধা ধরেই প্রতি মাসে কর কেটে রাখে। ওই সব প্রতিষ্ঠানকে এখন করের টাকা সমন্বয় করতে বেতন–ভাতা থেকে বাড়তি টাকা কেটে রাখতে হবে।
উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, কোনো করদাতার বার্ষিক আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয়, তবে সাড়ে ৭ লাখ টাকা হবে করযোগ্য আয়। ওই সাড়ে ৭ লাখ টাকার প্রথম চার লাখ টাকার ১০ শতাংশ হারে ৪০ হাজার টাকা, পরের সাড়ে ৩ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ হারে সাড়ে ৫২ হাজার টাকা—সব মিলিয়ে মোট কর হবে সাড়ে ৯২ হাজার টাকা। বিনিয়োগের জন্য ওই করদাতা কর ছাড় পাবেন ৩০ হাজার টাকা। তাঁকে কর দিতে হবে সাড়ে ৬২ হাজার টাকা। আগের হিসাবে ওই করদাতারা আয়ের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর ছাড় পেতেন। এতে ওই করদাতার করছাড়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ হাজার টাকা। এর মানে, ওই করদাতাকে আগের হিসাবে সাড়ে ৪৭ হাজার টাকা কর দিতে হতো। কিন্তু এবার তাঁকে ১৫ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।
আবার কোনো করদাতার বার্ষিক আয় যদি ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা হয়, তবে বিনিয়োগ সুবিধার প্রথম ২ লাখ টাকার ১৫ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাবেন। বাকি টাকার ওপর কর রেয়াত পাবেন ১২ শতাংশ হারে। আয় ৩০ লাখ টাকা হলে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ৭৮ হাজার টাকা কর রেয়াত পাবেন। একইভাবে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় হলে বিনিয়োগের প্রথম ২ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরের ৬ লাখ টাকায় ১২ শতাংশ এবং বাকি টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে রেয়াতি সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া নতুন বাজেটে ভবিষ্য তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর বসানো হয়েছে। এর ফলে একজন করদাতার ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর কর বসানো হলো। কেননা, ওই করদাতার প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ নিজের হিসাবে না আসা পর্যন্ত তা নিজের আয় নয়।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরইআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, কর রেয়াতে বিনিয়োগ সুবিধা কমানোটা ঠিক হয়নি। এতে বিনিয়োগকারী করদাতারা কিছুটা চাপে থাকবেন। অন্যদিকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের তহবিলে উৎসে কর বসানোর ফলে সঞ্চয় করার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা তুলে নেওয়া উচিত।
টিআইএন থাকতেই হবে: করযোগ্য হোক আর না–ই হোক, চাকরিজীবী হলেই ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে হবে। এ বিষয়ে বাজেটে একটু ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ছাড়া যেকোনো কোম্পানির বেতনভুক্ত কর্মীদের ই-টিআইএন থাকতে হবে।
বেতনভুক্ত কোনো কর্মীর ই-টিআইএন না থাকলে ওই সব কোম্পানির ওপর খড়্গ পড়বে। আয়কর অধ্যাদেশের ৩০ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো বেতনভুক্ত কর্মীর ই–টিআইএন না থাকলে ওই কর্মীকে যে বেতন দেওয়া হবে, তা কোম্পানির বেতন খাতে খরচ হিসেবে দেখাতে পারবে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৫) অনুযায়ী, দেশে ২৮ লাখ ৯৪ হাজার বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী আছেন। ব্যবস্থাপক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ১২ লাখ ২১ হাজার। মোটা দাগে বলা যায়, এ দুই শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৪১ লাখ ব্যক্তি আছেন, যাঁরা কোনো–না–কোনোভাবে চাকরি করেন। তাঁদের সবাইকে এখন টিআইএন নিতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮ লাখ টিআইএনধারী আছেন।
এ প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, কর ভিত্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু টিআইএন নিয়ে যাতে করদাতারা হয়রানির মুখে না পড়েন, সেদিকে নজর দিতে হবে। নতুন টিআইএনধারীদের অন্তত তিন বা চার বছর কোনো ধরনের যাচাই-বাছাইয়ে ফেলা ঠিক হবে না।
কর বিবরণী বাধ্যতামূলক: এবারের বাজেটে ১৬ হাজার টাকা বা এর বেশি বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারীর কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যাডার ও নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তো বটেই; দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদেরও করযোগ্য আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে।
আবার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী; শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য; ফার্মের অংশীদার হলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া সব সমবায় সমিতি, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত কর হারের সুবিধাভোগকারী করদাতাদেরও রিটার্ন দিতে হবে।
রিটার্ন জমার সময়ও আর বাড়ানো হবে না; ৩০ অক্টোবর হবে শেষ দিন। অর্থমন্ত্রী বাজেটে ওই দিনটিকে কর দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বিপাকে পড়বেন। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ঈদুল আজহা এবং অক্টোবরে দুর্গাপূজার পরপরই হিসাব–নিকাশ নিয়ে বসতে হবে। যেসব করদাতা এবার হজ করতে যাবেন, তাঁদের অনেককেই রিটার্ন জমা দিয়েই যেতে হবে।
ছাড়ও আছে: মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ টাকার কম হলে আয়কর বিবরণী জমার সময় সম্পদ বিবরণী ঐচ্ছিক করা হয়েছে। যাঁদের বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিজমা নেই; বেতন–ভাতা কিংবা ছোটখাটো ব্যবসা থেকে আয় করেন; তাঁরাই এ ছাড় পাচ্ছেন। তবে বড় করদাতাদের সম্পদের ওপর আগের চেয়ে বেশি সারচার্জ দিতে হবে। সারচার্জের হার পুনর্বিন্যাস করে চার থেকে পাঁচ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
এবার প্রতিবন্ধী ও বিভিন্ন জটিল আক্রান্ত রোগীদের করছাড় দেওয়া হয়েছে। হার্ট, কিডনি, চোখ, লিভার ও ক্যানসার–সংক্রান্ত কোনো অস্ত্রোপচারের খরচ নিয়োগকর্তা দিলে তা করমুক্ত থাকবে। আবার প্রতিবন্ধী চাকরিজীবীর চিকিৎসা ভাতা বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন।

Web design company Bangladesh

পুরাতন খবর

January 2018
SMTWTFS
« Dec  
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 

Related News

এ বছরের স্যান্টা ট্র্যাকার আনলো গুগল

বড়দিনের ছুটির দিনগুলোতে স্যান্টা ক্লজের বর্তমান অবস্থান ও গন্তব্যস্থল জানতে শিশুদের সহায়তা করতে এ বছরের ...

বিস্তারিত

মহাকাশকেন্দ্রে রাশিয়ার বিলাসবহুল হোটেল

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল বানানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা ...

বিস্তারিত

২০১৭ সালের আলোচিত প্রযুক্তি

প্রযুক্তির উন্নয়ন ক্রমেই বাড়ছে। এই উন্নয়নের ধারা মূলত চলছে সময়োপযোগী করে। ২০১৭ সালে প্রযুক্তির উন্নয়নে ঘটেছে ...

বিস্তারিত

চার্জ খেকো কয়েকটি অ্যাপ

স্মার্টফোনের প্রত্যেক ব্যবহারকারীর সাধারণ একটি সমস্যা ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া। নতুন ফোন কেনার পর ...

বিস্তারিত