• মঙ্গলবার ( রাত ৩:৪৮ )
  • ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং
  • ২রা জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী
  • ৮ই ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( বসন্তকাল )
MY SOFT IT

পোড়া মাটি চিত্রফলক আর ভাস্কর কারুকার্য মন্ডিত ঐতিহাসিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির

পোড়া মাটি চিত্রফলক আর ভাস্কর কারুকার্য মন্ডিত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির। দিনাজপুর সদর থেকে ২০ কিঃ মিঃ উত্তরে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে ঢেপা নদীর তীরে অবস্থিত এ মন্দির। ট্যারাকোটা অলংকরণে বৈচিত্র ইন্দো-পার্সিয়ান কারু শিল্পে মহিমান্মিত ঐতিহাসিক রসদে সমৃদ্ধ বিস্ময়কর এই কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের একটি মহা মূল্যবান প্রাচীন সম্পদ।

ইটের তৈরী পোড়ামাটি ফলকের উপর এমন সুন্দর কারু কার্য বাংলাদেশেই শুধু নয়, উপমহাদেশের আর একটিও রয়েছে কিনা সন্দেহ। মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটি ফলকের উপর অঙ্কিত রয়েছে রামায়ণ ও মহাভারতের প্রায় সবকটি কাহিনী। আরো রয়েছে সম্রাট আকবরের জীবদ্দশার কিছু কাহিনী সহ শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন চিত্র।

ঐতিহাসিক বুকানন হ্যামিল্টনের মতে, এটি অবিভক্ত বাংলার সবচেয়ে সুন্দরতম মন্দির। প্রায় ১ মিটার উঁচু এবং ১৮ মিটার বাহু বিশিষ্ট্য একটি বর্গাকার বেদীর উপরে নির্মিত এই মন্দির। এর পাথরগুলি মন্দিরের জন্য আনা হয়েছিল প্রাচীন বানগড় কোটিবর্ষ বা দেবকোট নগরের ভেঙ্গে যাওয়া মন্দিরগুলো থেকে। বর্গাকার নির্মিত মন্দিরের প্রত্যকটি বাহুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার। চারিদিকে প্রতিটি বারান্দা রয়েছে দুটি করে স্তম্ভ যা বিরাট আকারের ও ইটের তৈরী। আর রয়েছে ৩ টি খোলা দরজা, এর মধ্যে রয়ে ছোট ছোট কামরা। তিনতলা বিশিষ্ট্য এই মন্দিরের সর্বমোট ৯ টি চূড়া ছিল, ১৯৯৭ খ্র্স্টিাব্দে এক মারত্মক ভূমিকম্পের ফলে চূড়াগুলি ভেঙ্গে যায়। মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট।

মন্দিরের শিলালিপি থেকে জানা যায়- দিনাজপুরের জমিদার মহারাজা প্রাণনাথ রায় তাঁর শেষ জীবনে এই মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হলে মহারাজার দত্তক পুত্র রামনাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। কান্তজিউ বা শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ বা মূর্তি। এই মন্দিরে ৯ মাস অবস্থান করার শেষে এখানে রাসপূণিমা মেলা বসে, যা প্রায় মাসব্যাপী চলে। এ মেলায় দেশ বিদেশ থেকে আগত বহুপূণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমাগম ঘটে। এখানে একটি সরকারি ডাকবাংলো ও পর্যটন মটেল রয়েছে।

বর্তমানে সেতু নির্মিত হওয়ায় এ মন্দিরে যাতায়াতের সুবিধা রেড়েছে। সরকারের সাফল্য ও ভাবনার পথ ধরে ঐতিহাসিক কান্তজিউর মন্দির স্থান জুড়ে এগিয়ে চলছে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ। দিনাজপুরের ইতিহাসের পাতায় কাহারোল উপজেলাধীন দর্শনীয় কান্তজিউর মন্দির অনেক পুরানো হলেও এর ঐতিহ্য দেশ জুড়ে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখানেই বিশাল মাঠ জুড়ে জমে উঠে মেলা। দেশী-বিদেশী দর্শক যাত্রী প্রতিদিন মন্দির স্থানটিতে বেড়াতে এসে মন জুড়ায়। মন্দিরের অবয়ব আর এটির আর্শ্চয্য কারুকার্য্যতা সহজেই আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের। কয়েকশত বছরের পুরানো চতুষকোণ বিশিষ্ট প্রসিদ্ধ মন্দিরটি ধর্ম পরায়ণ দুই রাজা রামনাথ ও প্রাণনাথের অবদান। এই দুই রাজা তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্য মতে, ৬৬ একর দেবত্তর জমির মাঝখানে সনাতন পৌরানিক কাহিনী অসংখ্য দেব-দেবীর নক্সাকরা ছবি গুলি মন্দিরটির গায়ে আজোও উজ্বল হয়ে আছে। কিন্তু শিল্পীদের পরিচয় সন্ধান মিলছে না। অবশ্য, মন্দিরের মাঠ জুড়ে অনেক জমি বেদখল হয়ে গেলেও যা এখন ফিরিয়ে আনতে উপরের আদেশে ভূমি প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সরকারের সাফল্য ও ভাবনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল এমপির সহযোগীতায় পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে মন্দিরের চত্বর জুড়ে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্প গুলোর কাজও এগিয়ে চলছে। এই এলাকায় সরকারের বড় সাফল্য পর্যটন নগরী গড়ে তোলা।

দেশী বিদেশী সাহায্যে কোটি কোটি টাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রটি। এই পর্যটন কেন্দ্র বাস্তবায়নে থাকবে অতিথিশালা, রাতযাপন নিবাস, দর্শক যাত্রী ভক্তদের জন্য রেস্ট হাউস, নানান প্রজাতির বৃক্ষ রোপন, ফুলের বাগান, যাত্রীদের মন আকৃষ্ট করানো পার্ক। এছাড়া মন্দির স্থানের উত্তর ও দক্ষিণে তৈরী হবে লেক।

বিজ্ঞজনরা জানালেন, অনেক কাল ধরেই মন্দির জায়গাটি ছিল অবহেলিত। কিন্তু পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে এর উন্নয়নে এলাকাবাসী খুশির ভাব প্রকাশ করছেন। শুধু উন্নয়নেই নয় এই কর্মসূচীতে নিয়োগ পাবে প্রয়াজনীয় জনবল চাকুরী পাবে দরিদ্র বেকাররা। এর কয়েক বছর আগেই গড়ে উঠেছে পর্যটন রেস্তোরা। পাশেই নির্মান হচ্ছে আবাসিক হোটেল। কিন্তু স্থানীয়দের দাবী পর্যটন কেন্দ্রে সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সুবিধায় রেস্ট হাউস, গেস্ট হাউস বা অতিথি শালা আর হোটেলের ভাড়া কমিয়ে আনতে হবে।

দিনাজপুরের কান্তজিউর মন্দিরকে ঘিরে এখন চলছে উন্নয়নের ব্যস্ততা। মন্দির দর্শনে দেশ-বিদেশের দর্শকদের আসা যাওয়ার সুবিধার জন্য সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালের প্রচেষ্টায় দিনাজপুর বাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির সংলগ্ন ঢেপানদীর উপর নির্মিত হয় ব্রীজ। ব্রীজটির প্রাক্কলিক ব্যয় ১৩,৫৩,৩৮,৫৭৮/- টাকা।

এর দৈর্ঘ্য ২৮০.৩০ মিটার। ব্রীজটিতে রয়েছে ১১০টি পাইলিং, যার নাম পিসি গার্ডার ব্রীজ। তবে দর্শকদের মন জোগাতে পর্যটন কেন্দ্র্রকে আরো সুন্দর করার দাবী এলাকাবাসীর। কিন্তু চাই নিরাপত্তা বা আনসার ভিডিপির ব্যবস্থা থাকাই কাম্য।

Web design company Bangladesh

পুরাতন খবর

February 2018
SMTWTFS
« Jan  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728 

Related News

This fact will make you afraid of planes

এই খবর পড়লে প্লেনে ওঠার কথা ভুলে যাবেন!

সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন। কষে বাঁধুন। কেননা, এখন এমন একটি খবর আপনি পড়বেন, যা পড়ার পরে আপনার আত্মারাম খাঁচা ছেড়ে ...

বিস্তারিত

সিন্ধু সভ্যতার বয়স ৫৫০০ নয়, ৮০০০ বছর! বলছে নতুন গবেষণা

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস কি নতুন করে লেখার সময় এসে গেল! আইআইটি (খড়্গপুর) এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ...

বিস্তারিত

বাংলাদেশ ভ্রমণের আগে দেখে নিন কোথায় কোন খাবার খাবেন

এক নজরে তাদের দেখে নেওয়া দরকার৷মাছচাঁদপুরের ইলিশ খুলনার গলদা চিংড়ি যশোরের বড় কই চট্টগ্রামের ...

বিস্তারিত

ভারতে পর্যটক সংখ্যায় বাংলাদেশ দ্বিতীয়

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ভ্রমণকারী বাংলাদেশির সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটেছে।ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যার ...

বিস্তারিত