• সোমবার ( সকাল ৭:৪৮ )
  • ২০শে নভেম্বর ২০১৭ ইং
  • ১লা রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
  • ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )
MY SOFT IT

শিল্প ধ্বংসে শেষ পেরেক

আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১১৯২ আমদানি পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। আইএমএফের ঋণ সহায়তার শর্ত মানতে গিয়ে নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্যে সম্পূরক শুল্ক থাকছে না। এ সিদ্ধান্তে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের শেষ পেরেক মেরে দেয়া হল। অথচ সরকারের দায়িত্ব দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের ভুল নীতির কারণে শিল্প খাত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। এমনিতেই চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ পণ্য আসার কারণে দেশীয় শিল্পখাত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমদানি পণ্যে অধিক হারে শুল্ক না বসিয়ে সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। এতে সস্তা আমদানি পণ্যে বাজার সয়লাব হবে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশীয় অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্পে বিনিয়োগ করা গ্রাহকের আমানতের টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হবে। ফলে ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে। শিল্প স্থাপন না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। দেশে বেকারত্ব বাড়বে। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অংশ হিসেবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। জানা গেছে, নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ অনুযায়ী ১ জুলাই থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। দাতা সংস্থা আইএমএফের ঋণ সহায়তার শর্ত মানতে গিয়ে ১৭০টি জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্যে সম্পূরক শুল্ক থাকছে না। এজন্য সম্পূরক শুল্ক ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। এর ফলে স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ সুবিধা থাকবে না। এতে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশীয় শিল্পে। সস্তা আমদানি পণ্যে ছেয়ে যাবে দেশ। আমদানি পণ্যের কাছে ভীষণভাবে মার খাবে স্থানীয় উৎপাদকরা। অথচ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে। দায়িত্বশীল সূত্রমতে, সিগারেট, মদ, বিয়ার, নতুন-পুরনো মোটর কার ও পিকআপসহ মাত্র ১৭০টি পণ্যে কার্যকর থাকবে সর্বোচ্চ ৫শ’ শতাংশ থেকে সর্বনিু ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক। বর্তমানে সম্পূরক শুল্ক আছে ১৩৬২টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যে। আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন স্তরে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক শুল্ক আদায় হচ্ছে। কিন্তু নতুন আইন কার্যকর হলে এ খাত থেকে আদায় অর্ধেকে নেমে আসবে। তবে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর এবং ভ্যাটের আওতা বাড়িয়ে এ ক্ষতি পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র। সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে দেশীয় শিল্পের কী হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সদস্যের মন্তব্য হচ্ছে, বিপর্যয় হয়ে যাবে। কম দামের আমদানি পণ্যে বাজার ছেয়ে যাবে। স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। স্থানীয় শিল্পের সংরক্ষণে আর কোনো ব্যবস্থাই থাকবে না। ট্যারিফ কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রও স্বীকার করেছেন, সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু নতুন ভ্যাট আইনে এই শুল্ক যেসব পণ্যে থাকবে না সেসব পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সচেতন নন। জানতে চাইলে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট চালু হলে ব্যবসায়ীদের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি থাকা অবস্থায় এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তখন একটি কমিটি গঠন করা হয়। বলা হয়েছিল, কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে আইন সংশোধন ছাড়া বাস্তবায়ন করা হবে না। এখন দেখছি, সুপারিশ উপেক্ষা করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ দুই বছর আগে ভ্যাট আইন নিয়ে যে বিরোধ ছিল তা এখনও চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে একেকটি প্রতিরক্ষণ সুবিধা রাখে। যেটা আমরা সম্পূরক শুল্ক দিয়ে করি। কিন্তু নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করে সম্পূরক শুল্কের সুরক্ষা উঠিয়ে দিলে দেশীয় শিল্প চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেউ শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসবে না। কর্মসংস্থান হবে না। মনে রাখতে হবে, দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বিদেশী বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দিয়ে খুব বেশি লাভ হবে না। সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেয়া হলে চীন ও ভারতের ডাম্পিং গোডাউনে তৈরি হবে দেশের বাজার। জানা গেছে, নতুন আইনে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ লাইনের শতকরা ৯১ দশমিক ৮ ভাগ সম্পূরক শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া সম্পূরক শুল্কের স্তর ১৬টি থেকে ৯টিতে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমানে ১ হাজার ৩৬২টি পণ্য এবং ৫টি সেবা কোডের বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সম্পূরক আরোপিত পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ১৯২টি কমিয়ে ১৭০টিতে নামিয়ে আনা হবে। অপরদিকে ৩টি সেবা কোডের বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক থাকবে। সম্প্রতি এনবিআর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত  এক পত্রে বলা হয়েছে, সম্পূরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ সুবিধা ১৯৯১ সাল থেকে দেয়া হলেও কতগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান এর সদ্ব্যবহার করতে পেরেছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি তা সহজেই অনুমেয়। উদাহরণ হিসেবে রিকশা, সাইকেল ইত্যাদি নন-মোটরাইজড ভেহিক্যাল ও মোটর কারের কথা উল্লেখ করা হয় ওই পত্রে। উদ্যোক্তারা বলছেন, শুল্ক-কর কাঠামোতে সুরক্ষা ও বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করে থাকেন। এই মুহূর্তে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা কমিয়ে আনলে যেসব উদ্যোক্তা হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। অনেকে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারেন। তখন সংকটে পড়বে ঋণ দেয়া ব্যাংক। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। পণ্য উৎপাদনে কারিগরি সক্ষমতার দিক দিয়ে চীন, ভারতের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে দেশীয় কোম্পানির প্রতিরক্ষণ সুবিধা হ্রাস পেয়ে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে। যা উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার প্রধানতম বাধা সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজার হারাবে। তাই উন্নত দেশগুলোও নিজেদের দেশীয় কোম্পানি বাঁচাতে নানা ধরনের সুরক্ষা সুবিধা যেমন ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ ব্যবহার করে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে দেশীয় শিল্পের স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা। এ ছাড়া সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্যের সংখ্যা কমিয়ে আনার কারণে দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্যের আমদানি বেড়ে যাবে। ফলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। হুমকিতে পড়বে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। কর্মসংস্থানেও এর প্রভাব পড়বে। কারণ সুরক্ষা না থাকলে তখন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে আমদানিতে জোর দেবেন। পাশাপাশি পণ্য ও সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে পণ্যের মূল্য বাড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এছাড়া চাপে পড়বে খোদ সরকারও। কারণ সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাবে। তখন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ব্যয় পুনঃনিধারণ করতে হবে। বাড়তে পারে চলমান প্রকল্পগুলোর ব্যয়ও। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে দেয়া বাজেট প্রস্তাবে স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে উৎপাদিত পণ্য ও আমদানি পণ্যের মধ্যে মোট কর আপাতনের পার্থক্য ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বাজার ভারত ও চীনের পণ্যে সয়লাব হয়ে যাবে। কারণ এসব দেশের পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। অপরদিকে দেশে শ্রমের মূল্য কম থাকা সত্ত্বেও অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। যার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। নতুন শিল্প স্থাপন না হলে নতুন কর্মসংস্থানের জোগান দেয়া সম্ভব হবে না। এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, অনেক উদ্যোক্তা কারখানা বন্ধ করে দিয়ে আমদানি সনদ (আইআরসি) নেয়ার চিন্তা করছে। সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেয়া হলে উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে আরও বেকায়দায় পড়বে। দেশীয় শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশের শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা এ কাজে তাদের সহায়তা করছে।

Web design company Bangladesh

পুরাতন খবর

November 2017
SMTWTFS
« Oct  
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 

Related News

ইউটিউব, ফেসবুক কি শক্তের ভক্ত?

সরাসরি সম্প্রচারের যুগে বিতর্কিত ভিডিওর বিরুদ্ধে ফেসবুক-ইউটিউব এত দিন মুখ বুজে ছিল। জঙ্গি, উগ্রবাদ, সহিংসতার ...

বিস্তারিত

ধুয়ে-মুছে সব করে নিন সাফ

মনিটরঈদের ছুটির চেকলিস্টে মুভি দেখাটা থাকেই। টিভির তুলনায় এখন কম্পিউটার মনিটরে সিনেমা দেখা হয় ...

বিস্তারিত

রাজধানীতে বাড়ছে অপহরণ আতঙ্ক

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে অফিসের কাজ শেষে রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন জনাব মানসুর আলী নামের ...

বিস্তারিত

‘জঙ্গি আস্তানায়’ পড়ে আছে ৫ লাশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর হাবাসপুরের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পাঁচজনের লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থল ঘুরে এসে আজ বৃহস্পতিবার ...

বিস্তারিত